সাকিবের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং মোস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এর হার

সাকিবের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং মোস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস দুই দলেরই আজকে খেলা ছিল। সাকিবের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ খেলেছে চেন্নাই সুপার কিংস এর বিপক্ষে এবং মোস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস খেলেছে রাজস্থান রয়্যালস এর বিপক্ষে। হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাই দুই দলই হেরেছে।  সাকিব ব্যাটে ২৪ রান করলেও তার দল  সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৪ রানে হারে। আগে ব্যাট করে তিন ওইকেটে চেন্নাই সুপার কিংস  ১৮২ রান করে। জবাবে ১৮৩ রান তারা করতে গিয়ে ১৭৮ রান করতে সক্ষম হয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। সাকিব ৪ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়ে কোন উইকেট পান নি। আর এদিকে মুস্তাফিজুর রহমান একটি ওইকেট পান। তিনি চার ওভার বল করে ৩৫ রান দেন।

সাকিব আল হাসান যদি আজকে এক ওইকেট পেতেন তাহলে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম বা হাতি বলার হিসাবে তিনশত উইকেট পেতেন। কিন্তু তা আর হলো না, ৪ চার ওভার বল করে ৩২ রান দিয়ে কোন উইকেট তুলে নিতে পারেন নি তিন ফরমেটে বিশ্বের এই এক নাম্বার আলরাউন্ডার। ইনজুরির কারনে দলে ছিল না শিখর ধাওয়ানের মতো ব্যাটম্যান। সানরাইজার্স এর ব্যাটিংও এর প্রবাব পরে। প্রাথম পাঁচ ওভারে নেই তিন ওইকেট, আর রান মাত্র ২২। আর এই সময় নামলেন সাকিব আল হাসান। ভালই করছিলেন তিনি, ষষ্ঠ ওভারের ২য় বলে চার মেরে নিজের রানের খাতায় নাম লেখালেন এবং ওভারের শেষ বলে মারলেন ছয়। ৮ম ওভারের দীপক চাহারের ৫ম বলে আবারো চার মারলেন। যখন দল জয়ের আবাশ পাবে মনে হচ্ছিল তখনই আউট হয়ে মাঠ ছারলেন সাকিব আল হাসান। ১১ তম ওভারে কর্ণ শার্মার গুগলি বলে জোরে সুইপ খেলতে গিয়ে  ফাইন লেগে রায়নার হাতে কেচ তুলে দেন। আর কর্ণ শার্মাও পেয়ে যায় তার টি-টুয়েন্টির ক্যারিয়ারের ১০০তম উইকেট।

পঞ্চম উইকেটে উইলিয়ামসন ও ইউসুফ পাঠানের ৪৫ বলে ৭৯ রানের জুটিতে ম্যাচ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দিকে নিভু নিভু জলছিল। ১৮তম ওভারে উইলিয়ামসন আউট হওয়ার আগে  ৫১ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৪ রান করেন। তাকে ফেরান ডোয়াইন ব্রাভো। জিততে হলে শেষ ওভারে দরকার ১৯ রান। ঋদ্ধিমান সাহা এবং রশিদ খান প্রায় করে ফেলছিলিন। শেষ বলে ছয় রান দরকার হলে এক রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সানরাইজার্সের।

বল হাতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্রথম  ১০ ওভার শেষে মাত্র ৫৪ দিলেও, পরের ১০ দেয় ১২৮ রান। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে অম্বাতি রায়ুদু ৩৭ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো একটি ইনিংস খেলেন। এই ৭৯ রানে তিনি নয়টি চার এবং চারটি ছক্কা মেরেছেন। এছাড়া সুরেশ রায়না করেছেন ৪৩ বলে ৫৪ রান। মহেন্দ্র সিং ধোনি করেন ১২ বলে ২৫ রান। এবং ডু প্লেসিস ১১ রান ও শেন ওয়াটসন ৯ রান করেন।

চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দীপক চাহার সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন।

আর  এইদিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান অন্যোন্য ম্যাচের মতো শুরুতে ভালো বল করলেও শেষে গিয়ে রান দিয়ে ফেলেছেন। চার ওভার বল করে প্রথম তিন ওভারে ২০ রান দিলেও চাপের মুখে শেষ ১ ওভারে মহামূল্যবান ১৫ রান দিয়েছেন। ফলে  তার দল মুম্বাই ইন্ডানসও হেরেছে।

বল হাতে রাজস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বলাররা। প্রথম ১০ ওভারে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত  বল করছিল মুস্তাফিজুর রহমান রহমান। প্রথম দুই ওভারে দিয়েছেন মোটে ১১ রান। কিন্তু পরে সেই মুস্তাফিজ একওভারে ১৫ রান দিয়েছেন। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জাসিপ্রীত বুমরা ও হাদ্রিক পান্ডিয়া  সর্বোচ্চ দুই করে ওইকেট নেন। এছাড়াও মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান ও ক্রোনাল পান্ডিয়া একটি করে ওইকেট নেন।

ব্যাটিং এ মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এর হয়ে সূর্যকুমার যাদব ৬টি চারে এবং ৩টি ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৪৭ বলে ৭২ রান নেন। ওইকেট কিপার ইশান কিশান নেন ৪২ বলে ৫৮ রান। এছাড়া কিরন পোলার্ড ২০ বলে ২১ রান নিয়ে নট আউট ছিলেন।

SHARE