ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ করে দিলো বার্সেলোনা

লুইস সুয়ারেজ ও স্যামুয়েল উমতিটি গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে লীগে ৩৯ ম্যাচ আপরাজিত থাকার রেকর্ড করল এফসি বার্সেলোনা।

রিয়াল মাদ্রিদ একটা ধন্যবাদ দিতেই পারে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনাকে। কেননা ভ্যালেন্সিয়ার বিরোদ্ধে বার্সেলোনার জিতার কারনেই লীগে পয়েন্ট টেবিলে চার থেকে তিনে উঠার সুযোগ পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনা এবং ভ্যালেন্সিয়া মাঠে নামার আগে সমান ৩১ ম্যাচ খেলে ভ্যালেন্সিয়া থেকে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে টেবিলে চারে অবস্থান  করছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়া ছিল তিনে। ভ্যালেন্সিয়া যদি বার্সেলোনার বিরোদ্ধে জয় পেত তাহলে তারা টেবিলে ৩য় অবস্থান আরো পাকাপোক্ত করত। কিন্তু তারা ম্যচটি হেরে যায়। আজ যদি মালাগার বিরোদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদ জয় পায় তা হলে  পয়েন্ট টেবিলে তিনে উঠে যাবে আল-হোয়াইটরা।

বার্সেলোনার জন্য সহজ একটা ম্যাচ হতে পারতো। কিন্তু তা আর হতে দিল কই ভ্যালেন্সিয়া। পুরো ম্যাচে গোলে ব্যবধানে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও ভ্যালেন্সিয়ার আক্রমন দেখে মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হয়ে গেল। এই বুঝি বার্সেলোনা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল এবং আবারও রোমা ম্যাচের মতো অঘটন ঘটতে যাচ্ছে। কিন্ত তা আর হল না। ফুটবল বিধাতা বার্সেলোনার পক্ষেই কথা বলছে।

লুইস সুয়ারেজ ভুল না করলে ম্যাচের পাচ মিনিটেই গোল পেত পারতো বার্সেলোনা। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা পাস থেকে বল পেয়ে গোল করতে পারেন নি এই উরুগিয়ান স্ট্রাইকার। অবশ্য এর ১০ মিনিট পরেই দলকে এগিয়ে দেয় সুয়ারেজ। ফিলিপ কোতিনহো এর কাছ থেকে বল পেয়ে এবার আর বল জালে জরাতে ভুল করেননি বার্সেলোনার এই নাম্বার নাইন।

পিছিয়ে পরে ম্যাচ ফিরতে মরিয়া ভ্যালেন্সিয়া একের পর এক আক্রমন করে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হল। কিন্তু কখনও ফিনিশারদের ভুলে আবার কখনও বা বার্সেলোনার অতি মানবীয় পারফর্মেন্স এর কারনে গোল করতে ব্যর্থ হয় ভ্যালেন্সিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হয় ওই এক গোলেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমন চালায় ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু উল্টো ৫১ মিনিটে গোল খেয়ে বসে ভ্যালেন্সিয়া। ফিলিপ কোতিনহোর কর্নার থেকে হেডের মাধ্যমে গোল করেন স্যামুয়েল উমতিটি। ফিলিপ কোতিনহো তার বার্সেলোনার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেস্ট খেলাটা খেলেছেন মনে হয় এই ম্যাচএ। বার্সেলোনার দুইটি গোলেরই সাহায্যদাতা তিনি। ম্যাচ সেরা হয়ে  এর ফলও পেলেন  নিজ হাতে।

দুই গোল খেয়ে কোনটাসা  ভ্যালেন্সিয়া আক্রমনের পর আক্রমন করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ভ্যালেন্সিয়া। আবশেষে গোলের খরা মেটে পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আক্রমনের বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডি-বক্সের ভিতরে ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়ার  জোসে গায়াকে অবৈধভাবে ফাউল করে বসেন বার্সেলোনার খেলোয়ার ওসমানে ডেমবেলে  এবং হলুদ কার্ডও দেখেন। পেনাল্টি নিতে আসেন ড্যানিয়েল পেরেজো এবং এই শট প্রায় থামিয়ে ফেলছিলো বার্সেলোনার গোলরক্ষক টের-স্টেগেন কিন্তু হাত ফসকে তা জালে ডুকে যায়।

খেলার ইনজুরি টাইমে ভ্যালেন্সিয়া তিনটি ভয়ঙ্কর আক্রমন করে বার্সেলোনার ডি-বক্সএ। কিন্তু কোনটাই গোলে পরিনিত করতে পারেনি ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়াররা।

এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের পয়েন্ট টেবিলে নাম্বার ওয়ান পজিশন আরো পাকাপোক্ত করলো বার্সেলোনা। তারা ২য় থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ১৪ পয়েন্ট এবং ৪র্থ  থাকা চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ১৯ পয়েন্ট এগিয়ে।

আজ রাতে ১২.৪৫ মিনিটে মালাগার বিরোদ্ধে মাঠে নামবে বার্সেলোনার চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট টেবিলে চার থেকে তিনে উঠে আসবে লস ব্লাকসরা।

SHARE