বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ৮ ফুটবল স্টেডিয়াম

ফুটবল স্টেডিয়ামে শুধু ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় না, এটি একটি থিয়েটার যেখানে ভক্তরা খেলা উপভোগ এবং উদযাপন করে।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ফুটবল জনপ্রিয় হবার কারন হল এটি সব জায়গায় খেলা যায়। রাস্তা-ঘাট, খোলা মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনায়, পার্ক, স্কুলের মাঠ ইত্যাদি যেকোন জায়গায় ফুটবলের মত গোল কোন বস্তু দিয়ে খেলা যায়।  বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মতে ১.৩ বিলিওনের ও বেশি  জনগন ফুটবলের সাথে জরিত (ফুটবল খেলা ও দেখা)। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপে ৩.২ বিলিওনের ও বেশি শ্রোতা টেলিভিশনে ফুটবল খেলা উপভোগ করেছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা $১.৭ বিলিওনের ও বেশি সম্প্রচার রাইটস থেকে আয় করে। আর এই থেকে বোঝা যায় এই বিশ্বে ফুটবল কতটা জনপ্রিয়। সাধারনত পেশাদার ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত   স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়াম হল এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি পছন্দের দলের জন্য আনন্দ উদযাপন করতে পারেন আবার দুঃখ প্রকাশ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই, বিশ্বের বহত্তম (দর্শক ধারণক্ষমতা অনুযায়ী)  ১০ টি ফুটবল স্টেডিয়াম সম্পর্কে।

১। রানগ্রেডো মে ডে স্টেডিয়াম

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম ‘রানগ্রেডো মে ডে’ উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ং শহরে অবস্থিত। ১ মে ১৯৮৯ সালে স্টেডিয়ামটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ত্যাডং নদীর ক্ষুদ্র দ্বীপ রানগ্রেডো এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এর নাম অনুসারে এর নাম রাখা হয় রানগ্রেডো মে ডে স্টেডিয়াম। প্রাতিষ্ঠাকালে এর ধারণক্ষমতা ছিল  ১ লক্ষ ৫০ হাজার। পরবর্তী কালে  স্টেডিয়ামে কিছু সংস্কার করার  ফলে এর আসন সংখ্যা ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে কমে ১ লক্ষ ১৪ হাজারে চলে আসে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এর ধারণক্ষমতা ১ লক্ষ ৫০ হাজার  বলেই প্রচার করতে থাকে। পরে বিভিন্ন  স্টেডিয়াম বিশেষজ্ঞ এর আসন সংখ্যা পরীক্ষা করে দেখেন। তাদের  পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে আসে আসল আসন সংখ্যা। এখন ১ লক্ষ ১৪ হাজারই সার্বজনীনভাবে গৃহীত। রাঙ্গরাডোতে মুলত ফুটবল খেলা হয়। এর পাশাপাশি আরিং ফেস্টিভ্যাল বিভিন্ন ইভেন্টও এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

২। ক্যাম্প ন্যু

ক্যাম্প ন্যু ইউরোপের বৃহত্তম এবং বিশ্বের ২য় বহত্তর ফুটবল স্টেডিয়াম। এটি স্পেন এর বার্সালোনা শহরে অবস্থিত। ১৯৫৭ সাল থেকে ক্যাম্প ন্যু ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্টেডিয়ামটির  দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৯৯ হাজার ৩৫৪। ক্যাম্প ন্যু এর   রেকর্ড দর্শক  উপস্থিতি ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার এবং সর্বনিন্ম দর্শক  উপস্থিতি ছিল শূন্য জন। এই স্টেডিয়ামে ১৯৯২ সালের অলিম্পিক এবং  চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টেডিয়ামটি বানাতে প্রায় তিন বছর সময় লাগছিল এবং খরচ হয়ছে প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন ইউরো।

৩। আজটেকা স্টেডিয়াম

বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম  ফুটবল স্টেডিয়াম আজটেকা মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত। আজটেকা  স্টেডিয়ামের দর্শক  ধারণ ক্ষমতা ৯৫ হাজার। ১৯৬১ সালের শুরুর দিকে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৬ সালের ২২শে মে ক্লাব আমেরিকা বনাম টরিনো এফ.সি. ম্যাচ দিয়ে  উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন ম্যাচ এর দর্শক হয়েছিল প্রায় ১০৭,৪৯৪ জন। আজটেকা  স্টেডিয়ামকে মেক্সিকান জাতীয় দল এবং ক্লাব আমেরিকা তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। এছাড়া দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল সফলভাবে আয়োজন করার জন্যও এই স্টেডিয়াম বিখ্যাত। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো মারাদোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই মাঠে তার বিখ্যাত  ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল দিয়েছিল।

৪। আজাদী স্টেডিয়াম

আজাদী স্টেডিয়াম এর প্রথম দিকে নাম ছিল আরিমেহার স্টেডিয়াম এবং এটি বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটি  ইরানের  তেহরান শহরে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে স্টেডিয়ামটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আজাদী স্টেডিয়ামের দর্শক  ধারণ ক্ষমতা ৯৫,২২৫ জন। স্টেডিয়ামটি বৃহত্তর আজাদী স্পোর্ট কমপ্লেক্সের একটি অংশ এবং আজাদী স্পোর্ট কমপ্লেক্সে আছে দাঁড় টানা নদী, ফুটবল প্রশিক্ষণ পিচ, একটি ওয়েট-লিফটিং কমপ্লেক্স, সাঁতার কাঁটার সুবিধা এবং ইনডোর  ভলিবল এবং ফুটসাল কোর্ট এবং আরও অনেক অন্যান্য সুবিধা। ইরানের জাতীয় দল, এস্তালগাল এফসি এবং পেসেপোলিস এফসি তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে।

৫। এফএনবি স্টেডিয়াম

ফাস্ট  ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়াম বা  এফএনবি স্টেডিয়াম, এছাড়াও সকার সিটি এবং দি ক্যালাবশ নামেও পরিচিত। ফাস্ট  ন্যাশনাল ব্যাংক সাথে স্টেডিয়ামটির নেমিং রাইটস চুক্তিবদ্ধ।  ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপের আগে  স্টেডিয়ামটি নাম পরিবর্তন করে নাম রাখে সকার সিটি। কারন ফিফার অনুমোদিত টুর্নামেন্টে  স্পন্সর নাম ব্যাবহার করা ফিফা অনুমতি দেয় না। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি এফএনবি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। স্টেডিয়ামটি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সওতো অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা নাসরকে অবস্থিত। ১৯৮৭ সালে স্টেডিয়ামি নির্মাণ করা হয়, তবে বেশির ভাগ কাজ করা হয় ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপের সময়। স্টেডিয়ামটির নকশা আফ্রিকান পট দি ক্যালাবশ এর আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। এফএনবি স্টেডিয়ামের দর্শক  ধারণ ক্ষমতা ৯৪,৭৩৬ জন।

৬। রোজ বোল

রোজ বোল যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার পাসডেনায় অবস্থিত। রোজ বোল  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্টেডিয়ামগুলির মধ্যে একটি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সকার স্টেডিয়াম। ১৯২২ সালের অক্টোবরের ২৮ তারিখে  স্টেডিয়ামটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ১ই জানুয়ারি। স্টেডিয়ামটির  দর্শক  ধারণ ক্ষমতা ৯২,৫৪২ জন। ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ১৯৯৯ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ ফাইনাল এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

৭। ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম

বিশ্ববিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের লন্ডনে ওয়েম্বলিতে অবস্থিত।  ২০০২-২০০৩  মূল ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম ভেঙ্গে আধুনিকায়ন করে ২০০৭ সালে জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং খরচ হয়ছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। স্টেডিয়ামটিতে ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলের হোম ম্যাচ এবং এফএ কাপের ফাইনালসহ বড় বড় ম্যাচ অনুষ্ঠানিত হয়। প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার এবং হোয়াইট হার্ট লেন নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করার ফলে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামকে তাদের অস্থায়ী হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। স্টেডিয়ামটির  দর্শক  ধারণ ক্ষমতা ৯০,০০০ জন।

৮। জেলোরা বং কর্ণো স্টেডিয়াম

‘জেলোরা বং কর্ণো স্টেডিয়াম’ একটি মাল্টি পারপাস স্টেডিয়াম। এটি ইন্দোনেশিইয়ার সেন্টাল জাকার্তায় ‘জেলোরা বং কর্ণো  স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। ১৯৬২ সালে নির্মাণ কালে এর আসন ছিল  ১,১০,০০০ টি। কিন্তু ২০০৬ সালে  ‘২০০৭ এএফসি এশীয়া কাপ’ এর জন্য প্রথমে ৮৮,০৮৩ টি এবং ‘২০০৮ এশিয়ান গেমসের’ জন্য ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৭৬,১২৭ টি দ্বিতীয়বারের মতো আসন সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। স্টেডিয়ামটির নির্মাণ ব্যায় ছিল প্রায়  ৭৬৯.৬৯ বিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রূপিয়া।  সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্পেসিয়াল ঋণের মাধ্যমে এটির নির্মাণের অর্থায়ন করা হয়েছিল।